
নিজস্ব সংবাদদাতা:
আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হল একটি “গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সংস্কৃতি” যার মধ্যে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং “জনগণ এবং রাষ্ট্রের মধ্যে স্থান” -এ “আখ্যান, ধারণা এবং পরিচয় তৈরি” জড়িত। রাজনৈতিক তত্ত্ব এবং সাংবিধানিক অনুশীলনে একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সাধারণত কেবল নির্বাচন হিসাবে বোঝা যায় না।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও আইনানুগ শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। গনতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতিতে গনতন্ত্রের কন্ঠস্বর নাগরিক ভোটাধিকার, আইন ও আবেগ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে নাগরিক ভাবনা এগিয়ে চলার পথ সম্পর্কে জানা ও বুঝতে পারার মাঝেই নাগরিক সচেতনতা ও প্রত্যাশার জন্ম।
রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য গনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্র হলো সার্বভৌম। সার্বভৌমত্বের অর্থ হলো রাষ্ট্রই চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্র জনগণের ওপর যে আইন ও সিদ্ধান্ত আরোপ করে, জনগণ তা আইন সংগত ভাবে মেনে চলতে বাধ্য । রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান জনগন, কিন্তু জনগণই রাষ্ট্র নয়। জনগণ হইতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে, তথাপি রাজনৈতিক দলও রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্র, জনগণ ও রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ৪(চার)টি স্তম্ভ বা উপাদান অর্থাৎ এক, জনসমষ্টি ; দ্বিতীয়ত,নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ; তৃতীয়ত, সরকার ; এবং চতুর্থত, সার্বভৌম ক্ষমতা, নিয়ে গঠিত হয়। রাষ্ট্র নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে আইন তৈরি ও প্রয়োগ করে এবং এর সার্বভৌম ক্ষমতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চূড়ান্ত এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতা, যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে এবং বৈদেশিক নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত অর্থাৎ স্বাধীন রাষ্ট্র সত্তার বাহ্যিক রূপ।
সার্বভৌমত্ব কোনো একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার উপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা নির্দেশকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, যা রাষ্ট্র গঠনের মূখ্য উপাদান আর সার্বভৌমের আদর্শই হলো আইন বা সর্বোচ্চ ক্ষমতা, যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে এবং যা সকলে মেনে চলতে বাধ্য। এর মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র তার ভূখণ্ড এবং জনগণের উপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে, যা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। গনতান্ত্রিক শাসনতন্ত্র হলো সেই মৌলিক আইন, যা একটি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার ভিত্তি, এই মৌলিক আইন সংবিধান নামে পরিচিত। সংবিধান সেই দেশের জনগন, সকল নাগরিক, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ওপর মানতে বাধ্য । সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক ভিত্তি, যা আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করে।
একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান জনসমষ্টি অর্থাৎ জনগন। রাষ্ট্রের গনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগন সকল রাজনৈতিক ক্ষমতা বৈধতার উৎস। রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রের আলোকে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা সরকারের দায়িত্ব। জনগণের সার্বভৌমত্ব হলো নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ যে কোন প্রার্থী নির্বাচন ক্ষমতা ভোগ করা আর জনগণ তাদের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচন করে। জনগন রাষ্ট্রের শাসক নির্বাচন করে, শাসক পরিবর্তন করে, প্রয়োজনে উৎখাত করে। গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্ব কথাটি সকলের নিকট পরিচিত।
গণপ্রজাতন্ত্র বলতে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস জনগণ ও জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হয় এবং সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা মেনে চলে।
গণতন্ত্র ও গণপ্রজাতন্ত্র মূলত জনমতের ভিত্তিতে শাসিত হলেও তাদের গঠন ও কার্যক্রমে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ”গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ হওয়ায় গনপ্রজাতন্ত্রী কাঠামোতে অনির্বাচিত সরকার বা শাসনব্যবস্থার আইন সঙ্গত: অনুমোদন নাই।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হলো গণতন্ত্র, যেখানে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। প্রজাতন্ত্র হলো জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের প্রতিনিধি পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা।
রাষ্ট্র জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার সার্বভৌম ক্ষমতা রাখে এবং শাসনের জন্য সংবিধান, আইন, নিয়ম-কানুন প্রনয়ণ করে।গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসনতন্ত্র বা সংবিধান হলো সেই মৌলিক আইন, সংবিধান সেই দেশের জনগন, সকল নাগরিক, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ওপর মানতে বাধ্য।
রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রের আলোকে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা সরকারের দায়িত্ব। বাংলাদেশ সংবিধান এর বিধান অনুসরণে বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ ক্ষমতা মহান জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর সংশোধন পরিবর্তন পরিবর্ধন পরিমার্জন করার এক্তিয়ার ও স্থান একমাত্র মহান জাতীয় সংসদ।
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি আইনের সামনে সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা আর আইনের শাসন। গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নির্বাচন ও আলোচনা ন্যায্য হতে হবে, যাতে ভোটাররা নিজেদের ইচ্ছা ও বিশ্বাস অনুযায়ী ভোট দিতে পারে এবং সব ভোটার রাষ্ট্র ও সমাজের জীবনে অবাধে অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা। গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনই নয়, এতে নাগরিকদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তাও থাকে।
গনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দলীয় সরকার বা রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন করে কার্যকর কোনো লাভ হবে না। সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বলই থেকে যাবে।
আমি মনে করি, রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব যদি, শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতার প্রতি নয়, বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে ও সুশাসনে জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন এবং আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলেই গণতন্ত্র স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।
গনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংবিধান ও আইন অনুসরণে সরকারের দায়বদ্ধতা আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রথম ধাপ। আইনের শাসন (Rule of Law) ও আইনের অনুশাসন (Rule by Law/ Legal Order) —উভয়ই একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়, বিচার, সমতা এবং স্বেচ্ছাচারিতা নিরসনের মূলভিত্তি। আইনের শাসন (Rule of Law) মানে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনের শাসন (Rule of Law) এর অন্যতম পূর্বশর্ত হলো আইনের অনুশাসন (Rule by Law) প্রতিষ্ঠা। যখন আইনের অনুশাসন (Rule of Law) সুপ্রতিষ্ঠিত হয় ও আইন গুলো ন্যায় ভিত্তিক হয়, তখনই প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের শাসন (Rule of Law) প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত স্বাধীন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠিত করা এবং জনগনের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
আইনের অনুশাসন (Rule by Law) হলো আইনের মাধ্যমে বা আইনের অধীনে শাসন পরিচালনা করা যেখানে সরকারের সিদ্ধান্তগুলো আইন সম্মত হয়। আইনের অনুশাসন (Rule by Law / Legal Order) বলতে আইনের বিধান অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করা এবং আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে চলতে বাধ্যবাধকতা। সর্বোপরি, আইনের অনুশাসন (Rule by Law) অনেক সময় শুধুমাত্র আইন অনুযায়ী দেশ চালালে তা আইনের শাসন (Rule of Law) নাও হতে পারে, যদি আইন নিজেই বৈষম্য মূলক হয়। কার্যকর আইনের শাসনের জন্য আইনের অনুশাসন থাকা অপরিহার্য। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক কতৃপক্ষ শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে আইন গুলো ন্যায় ভিত্তিক ও আইনের ন্যায় পরায়নতা নিশ্চিত করে, আইনের শাসন (Rule of Law) ও আইনের অনুশাসন (Rule by Law) প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করিয়া জনগণের জীবন নিরাপদ করার নিশ্চয়তা বিধান করার মাঝেই রাষ্ট্র ভাবনা প্রতিফলিত রাষ্ট্র বিনির্মানের অঙ্গীকার।
সংবিধান, আইন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ সমুন্নত রাখা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি, যা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে নির্বাহী বিভাগের কাজ পর্যালোচনা (Judicial Review) করে এবং আইনের শাসন (Rule of Law) প্রতিষ্ঠা করে। কার্যকর আইনের শাসন (Rule of Law) এর জন্য আইনের অনুশাসন (Rule by Law/ Legal order) থাকা অপরিহার্য আর যদি আইন নিজেই বৈষম্য মূলক হয়, তাহলে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা দূর্বল হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা সমৃদ্ধ ভাবে গড়ে উঠার পথ সুগম করে। সুশাসনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন অনস্বীকার্য।
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর সর্বোচ্চ আইন বাংলাদেশ সংবিধান। বাংলাদেশ সংবিধান এর বিধান অনুসরণে বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ ক্ষমতা মহান জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত। জনগনের সার্বভৌম ক্ষমতা ইচ্ছার প্রতিফলন নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিয়ে মহান জাতীয় সংসদ গঠিত।
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর সংশোধন পরিবর্তন পরিবর্ধন পরিমার্জন করার এক্তিয়ার ও স্থান একমাত্র মহান জাতীয় সংসদ।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিটি কাজের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনের উর্ধ্বে, এমন কোন বৈধ কর্তৃপক্ষ নেই। বাংলাদেশের সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, যার লঙ্ঘন মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। সরকার যে কোন অসাংবিধানিক কাজ করলে উচ্চ আদালত (অনুচ্ছেদ ১০২) ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের মাধ্যমে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। জনগণের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা।
সংবিধান লঙ্ঘন ও সরকারের দায়বদ্ধতার মূল বিষয়সমূহের অন্যতম মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ দায়বদ্ধতা, আইনগত দায়বদ্ধতা, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা সমুন্নতকরনের দায়বদ্ধতা, দায়মুক্তি বিষয়ক দায়বদ্ধতা সম্পর্কিত ধারণা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা সমৃদ্ধ করবে।
মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ : সরকার বা রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা যদি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগে রিট করার অধিকার জনগণের রয়েছে ।
আইনগত দায়বদ্ধতা: আইন দ্বারা শাসন অর্থাৎ ব্যক্তি বা সরকার কেউ আইনের উর্ধ্বে নন। আইন নিজেই সর্বোচ্চ ও আইনের সামনে সমতা নিশ্চিত করে। রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপগুলি আইন দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে, যা স্বেচ্ছাচারী নির্বাহী পদক্ষেপ নিষিদ্ধ করে ও আইনগুলি স্বচ্ছ, প্রতিষ্ঠিত, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হয়। সরকার প্রতিটি কাজের জন্য সংসদে বা আদালতের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। জনস্বার্থবিরোধী বা আইন বহির্ভূত কাজে সরকার সাংবিধানিক দায় এড়াতে পারে না।
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা সমুন্নতকরনের দায়বদ্ধতা : সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীনভাবে সরকারের যেকোনো কর্মকাণ্ড, যা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তার বিরুদ্ধে আদেশ জারি করতে পারে। কোনো আইন বা সরকারি আদেশ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা আদালত বাতিল করতে পারে (Constitutional review)।
দায়মুক্তি বিষয়ক দায়বদ্ধতা : অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ সাংবিধানিক দায়মুক্তি পেতে পারে না, বিশেষ করে যদি তা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ।
সর্বোপরি, রাষ্ট্র পরিচালনা হলো সংবিধান ও আইনী বাধ্যবাধকতা অনুসরণ ও প্রতিপালন করা। সংবিধান অনুযায়ী সরকার পরিচালিত হতে বাধ্য এবং সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য সরকারকে আইনের শাসন ও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সংবিধানের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব অনুযায়ী সরকার তার যেকোনো বেআইনি বা সংবিধান-বিরোধী কাজের জন্য আইনত দায়বদ্ধ, যার প্রতিকার সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব।
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে সংবিধান লঙ্ঘন করা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। মৌলিক আইন শাসনতান্ত্রিক সংবিধান অনুসারে সরকারের তিন অঙ্গ আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, যে কোন অঙ্গের কার্যক্রমের মাধ্যমে কাজ না করা বা এর কোনো বিধানের লঙ্ঘন করা সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। সংবিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি শুধু সরকারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, কারণ সরকার ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণ করে সংবিধান। জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংবিধান অনুসারে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাই জনগণ সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে না।
রাষ্ট্র পরিচালনা সরকার, সংবিধান সমুন্নত রাখার বাধ্যবাধকতা ও সংবিধান লঙ্ঘনের দায় যেমন রয়েছে, তেমনি আইনের শাসন ও আইনের অনুশাসন নিশ্চিত করার দায়িত্বও রয়েছে, যা জনগণের অধিকার সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা প্রতিপাদ্য।
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি’র মেলবন্ধনে জনগনের অধিকার সংরক্ষণে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক কতৃপক্ষের রাষ্ট্র ভাবনায় প্রতিফলিত হবে, সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা, আইন প্রতিপালন, আইনের শাসন ও আইনের অনুশাসন, জনগনের অধিকার ও রাষ্ট্র বিনির্মানের অঙ্গীকার।
লেখক: মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, চেয়ারম্যান, গ্লোবাল লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার- জিএলএসডিসি।
Leave a Reply